© 2026 Boyos Calculator

General4 min read

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট করার বয়সসীমা, ফি ও নিয়মাবলি (২০২৬ আপডেট)

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট করার সঠিক বয়সসীমা কত? ১৮ বছরের নিচে ও প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্টের মেয়াদ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি এবং অনলাইনে আবেদনের বিস্তারিত নিয়ম জানুন।

https://boyoscalculator.com/image/e-passport-age-limit-and-fee-bangladesh.png

দেশের বাইরে ভ্রমণ, পড়াশোনা, চিকিৎসা কিংবা কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়া—যেকোনো কারণেই হোক না কেন, পাসপোর্ট হলো একজন নাগরিকের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও এখন সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক বা ই-পাসপোর্ট (e-Passport) যুগে প্রবেশ করেছে। মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (MRP) চেয়ে ই-পাসপোর্ট অনেক বেশি নিরাপদ এবং আধুনিক।

কিন্তু অনেকেই ই-পাসপোর্ট করার আগে বয়সসীমা এবং মেয়াদের নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে, বাচ্চাদের পাসপোর্টের মেয়াদ কত বছর হবে, ১৮ বছর পূর্ণ না হলে ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট করা যাবে কিনা, কিংবা ঠিক কত বছর বয়সে পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র লাগে—এই বিষয়গুলো নিয়ে গুগলে প্রচুর সার্চ হয়।

আজকের এই বিস্তারিত ব্লগে আমরা বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট করার সঠিক বয়সসীমা, বয়সভিত্তিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পাসপোর্টের ফি এবং নির্ভুলভাবে বয়স হিসাব করার উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

ই-পাসপোর্টের মেয়াদ ও বয়সসীমা (Age Limit for e-Passport)

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী, একজন নাগরিকের বয়সের ওপর ভিত্তি করে তার পাসপোর্টের মেয়াদ (৫ বছর বা ১০ বছর) নির্ধারিত হয়। বয়স অনুযায়ী ই-পাসপোর্টের মেয়াদের ধরন নিচে দেওয়া হলো:

১. ১৮ বছরের নিচে (অপ্রাপ্তবয়স্ক): যাদের বয়স এখনও ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি, অর্থাৎ শিশু থেকে শুরু করে ১৭ বছর ১১ মাস বয়স পর্যন্ত সবাইকে ৫ বছর মেয়াদি (৪৮ পৃষ্ঠা) ই-পাসপোর্ট প্রদান করা হয়। ১৮ বছরের নিচে কাউকে ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট দেওয়া হয় না, কারণ এই বয়সে শারীরিক গঠনে (যেমন: চেহারা, আঙুলের ছাপ) দ্রুত পরিবর্তন আসে।

২. ১৮ থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত (প্রাপ্তবয়স্ক): যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে বা তার বেশি, তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ৫ বছর অথবা ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ, এতে বারবার নবায়ন করার ঝামেলা থাকে না।

৩. ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে (প্রবীণ নাগরিক): সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের ক্ষেত্রে আবারও শুধুমাত্র ৫ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট প্রদান করা হয়। বার্ধক্যজনিত কারণে চোখের আইরিশ বা আঙুলের ছাপে পরিবর্তন আসতে পারে বিধায় এই নিয়ম চালু রয়েছে।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ছবি তোলা বা আঙুলের ছাপ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তাদের জন্য পিতা-মাতা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জমা দিলেই পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়।)

পাসপোর্ট করার আগে কেন সঠিক বয়স হিসাব করা জরুরি?

ধরে নিন, আপনার সন্তানের বয়স ১৭ বছর ১১ মাস। আপনি যদি না বুঝেই ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি জমা দিয়ে দেন, তবে আপনার আবেদনটি বাতিল হতে পারে বা অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। আবার, বয়স ঠিক ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে কিনা তা না জানলে আপনি এনআইডি (NID) কার্ডের জায়গায় জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ভুল আবেদন করে ফেলতে পারেন।

তাই পাসপোর্টের আবেদন করার আগে বা ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার আগে আপনার সঠিক বয়স (বছর, মাস ও দিন) জানা অত্যন্ত জরুরি। খাতা-কলমের ঝামেলা এড়িয়ে একদম নির্ভুলভাবে বয়স বের করতে আপনি আমাদের Boyos Calculator ব্যবহার করতে পারেন।

কীভাবে বয়স বের করবেন? ১. আমাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে 'আপনার জন্মতারিখ' অপশনে আপনার জন্মসনদ বা এনআইডি অনুযায়ী তারিখটি দিন। ২. 'আজকের তারিখ' অপশনে বর্তমান দিনটি সিলেক্ট করুন। ৩. 'হিসাব করুন' বাটনে ক্লিক করলেই আপনি দেখতে পাবেন আপনার বয়স ঠিক কত বছর, মাস এবং দিন। যদি ১৮ বছর পূর্ণ হয়ে থাকে, তবে আপনি নিশ্চিন্তে ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন।

ই-পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

বয়স অনুযায়ী ই-পাসপোর্টের আবেদনের কাগজপত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। আপনার বয়স অনুযায়ী নিচের ডকুমেন্টসগুলো প্রস্তুত রাখুন:

১৮ বছরের নিচে (বাচ্চাদের ক্ষেত্রে):

  • অনলাইন ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদের ইংরেজি ভার্সন (BRC English Version)।
  • বাবা এবং মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি।
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি (৬ বছরের কম বয়সী হলে)।

১৮ থেকে ২০ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ (ইংরেজি ভার্সন)। এই বয়সে এনআইডি না থাকলেও জন্ম সনদ দিয়ে আবেদন করা যায়।

২০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সীদের ক্ষেত্রে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড (NID) থাকা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। ২০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট করা যায় না (তবে প্রবাসীরা বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় পান)।
  • পেশার প্রমাণপত্র (যেমন: চাকরিজীবী হলে NOC বা প্রত্যয়নপত্র, ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স, স্টুডেন্ট হলে আইডি কার্ড)।
  • পূর্বের কোনো পাসপোর্ট (MRP) থাকলে তার মূল কপি ও ফটোকপি।

ই-পাসপোর্টের ফি কত? (২০২৬ আপডেট)

পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা (৪৮ বা ৬৪ পৃষ্ঠা), মেয়াদ (৫ বা ১০ বছর) এবং ডেলিভারির ধরনের (রেগুলার, এক্সপ্রেস, সুপার এক্সপ্রেস) ওপর ভিত্তি করে ফি নির্ধারিত হয়। নিচে ১৫% ভ্যাটসহ ই-পাসপোর্টের বর্তমান ফি তুলে ধরা হলো:

৪৮ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট ফি:

  • ৫ বছর মেয়াদি: রেগুলার (১৫-২১ দিন): ৪,০২৫ টাকা | এক্সপ্রেস (৭-১০ দিন): ৬,৩২৫ টাকা | সুপার এক্সপ্রেস (২ দিন): ৮,৬২৫ টাকা।
  • ১০ বছর মেয়াদি: রেগুলার: ৫,৭৫০ টাকা | এক্সপ্রেস: ৮,০৫০ টাকা | সুপার এক্সপ্রেস: ১০,৩৫০ টাকা।

৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট ফি (যারা বেশি ভ্রমণ করেন):

  • ৫ বছর মেয়াদি: রেগুলার: ৬,৩২৫ টাকা | এক্সপ্রেস: ৮,৬২৫ টাকা | সুপার এক্সপ্রেস: ১২,০৭৫ টাকা।
  • ১০ বছর মেয়াদি: রেগুলার: ৮,০৫০ টাকা | এক্সপ্রেস: ১০,৩৫০ টাকা | সুপার এক্সপ্রেস: ১৩,৮০০ টাকা।

আপনি চাইলে অনলাইনে এ-চালানের (A-Challan) মাধ্যমে ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং দিয়ে ফি জমা দিতে পারেন। এছাড়া অনুমোদিত ব্যাংকগুলোতে (যেমন: সোনালী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক) সরাসরি গিয়েও ফি জমা দেওয়া যায়।

অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদনের সংক্ষিপ্ত নিয়ম

১. প্রথমে ই-পাসপোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (epassport.gov.bd) প্রবেশ করে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন। ২. "Apply for a new e-Passport" অপশনে গিয়ে ধাপে ধাপে আপনার এনআইডি বা জন্মসনদ অনুযায়ী নির্ভুল তথ্য দিয়ে ফর্মটি পূরণ করুন। ৩. আপনার পছন্দমতো পাসপোর্টের পৃষ্ঠা ও মেয়াদ সিলেক্ট করুন। ৪. ফি পরিশোধ করে বায়োমেট্রিক (ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ) দেওয়ার জন্য একটি তারিখ বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন। ৫. নির্ধারিত দিনে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কপি, পেমেন্ট স্লিপ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মূল ও ফটোকপি নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হোন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: আমি কি জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট করতে পারব? উত্তর: না। ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট শুধুমাত্র ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের দেওয়া হয়। আর ১৮ বছরের উপরে হলে এনআইডি (NID) কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক।

প্রশ্ন ২: ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে? উত্তর: হ্যাঁ। নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। তবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এনআইডি ও অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের ভিত্তিতে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও সহজ করা হয়েছে।

প্রশ্ন ৩: ৬ বছরের নিচে বাচ্চার পাসপোর্টের জন্য কি পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে? উত্তর: না। ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ) লাগে না। অভিভাবকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং শিশুর ছবি জমা দিলেই পাসপোর্ট হয়ে যায়।

প্রশ্ন ৪: আমার বয়স ঠিক ১৮ বছর হতে ২ দিন বাকি, আমি কি ১০ বছরের জন্য আবেদন করতে পারব? উত্তর: না। আবেদন করার দিন আপনার বয়স অবশ্যই ১৮ বছর পূর্ণ হতে হবে। সঠিক বয়স জানতে আমাদের Boyos Calculator দিয়ে আগে হিসাব করে নিন।

শেষ কথা

একটি ভুল তথ্যের কারণে আপনার পাসপোর্টের আবেদন বাতিল হতে পারে এবং আপনার মূল্যবান সময় ও টাকা নষ্ট হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সব কাগজপত্র সঠিকভাবে যাচাই করে নিন। বিশেষ করে বয়সের সাথে পাসপোর্টের মেয়াদের সম্পর্কটি মাথায় রেখে ফর্ম পূরণ করুন। পাসপোর্ট সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতা এড়াতে এবং ফর্ম পূরণের আগে আপনার নিজের বয়স যাচাই করে নিতে এখনই ব্যবহার করুন আমাদের Boyos Calculator। আপনার নিরাপদ ও আনন্দদায়ক ভ্রমণের জন্য শুভকামনা!

তথ্যসূত্র (References): ১. বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অনলাইন পোর্টাল (Official): ই-পাসপোর্ট আবেদনের নিয়মাবলি ও বয়সসীমা। যাচাই করুন: epassport.gov.bd ২. বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট ফি (Official): মেয়াদ ও পৃষ্ঠার ওপর ভিত্তি করে ই-পাসপোর্টের ফি-এর তালিকা। যাচাই করুন: পাসপোর্ট ফি তালিকা ৩. সময় টিভি (Somoy TV): সহজে ই-পাসপোর্ট পাওয়ার নিয়ম ও ফি-এর আপডেট। যাচাই করুন: সময় টিভির প্রতিবেদন